দোয়া কবুলের পরীক্ষিত আমল - কিভাবে দোয়া করলে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন

আজকে আমরা এ হাদীসে আলোচনা করছি দোয়া কবুলের প্রেক্ষিত আমল। আল্লাহ আমাদের বিভিন্নভাবে দোয়া কবুল করে থাকেন কিভাবে দোয়া করলে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। আল্লাহর কোন নাম পড়লে মনের আশা পুরন হয়। এ সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে এই অটিকালটি পড়তে হবে।
দোয়া কবুলের পরীক্ষিত আমল
এই আর্টিকেলে আমরা আরো আলোচনা করছি কোন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। এছাড়া আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল।

দ্রুত দোয়া কবুল হওয়ার উপায়


হযরত আমর বিন আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সা. কে বলতে শুনেছেন- আল্লাহ তাআলা শেষ রাতের মধ্যভাগে বান্দার অধিক নিকটবর্তী হন। সুতরাং যদি সম্ভব হয় তোমরা সে সব লোকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও, যারা এ সময় আল্লাহ তাআলার যিকির করে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করে। রাতের দুআ কবুলের মুহূর্ত আল্লাহতালা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করে।

আরো পড়ুনঃ

হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- রাতের বেলা এমন একটা সময় রয়েছে, যে সময় কোনো মুসলমান আল্লাহ তাআলার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের যে কোনো কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাআলা তাকে তা দান করেন। আর এটা অর্থাৎ ঐ মূহুর্তটি প্রতি রাতেই রয়েছে।

কোন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা আমার কাছে দোয়া কর, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো' (সূরা মুমিন, আয়াত ৬০)
রাসুল (সা.) বলেছেন, 'দোয়া ছাড়া আর কিছুই আল্লাহ সিদ্ধান্ত কে বদলাতে পারে না'। (তিরমিজী, হাদিস নাম্বার ২১৩৯) দোয়া সব ইবাদতের মূল।

যে ব্যক্তি দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না-
দোয়া কবুলের পরীক্ষিত আমল
হারাম খাওয়াঃ স্বাস্থ্যসম্মত, পবিত্র ও উপকারী সব ধরনের খাবার গ্রহণ ইসলামে উৎসাহিত দিয়েছে । যেসব খাবার অপবিত্র অবৈধ তা ইসলামের নিষেধ করেছেন। আল্লাহতালা এরশাদ করেন, 'আপনি বলে দিন, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, আরোহকারী যা আহার করে তাতে তার জন্য আমি কোন হারাম খাবার পাই না; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ (সূরা আন -আম আয়াত: ১৪৫)।
আরো পড়ুনঃ
নোংরা ও নাপাক কিছু খাওয়া হারাম । আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, 'তাদের জন্য তিনি (রাসূল) পবিত্র বস্তু হালাল করেন আর অপবিত্র বস্তু হারাম করেন'। (সূরা আরাফ, আয়াত: ১৫৭। হারাম খাবার খাওয়ার ব্যাক্তি দোয়া আল্লাহর দরবারে কখনো কবুল হয় না ।

নিরাশ হওয়া ব্যক্তিঃ যে ব্যক্তি দোয়া করার সময় হতাশ হয়ে যায় আল্লাহ দরবারে তার দোয়া কবুল হয় না । আল্লাহর উপর নির্ভর করে মুমিন কখনো হতাশ হয় না। দুনিয়া অপূর্ণতা তাদের আঘাত দেয় না বরং তার প্রতিক্ষার প্রহর গুনে মহাসফলতার। সেই সফলতা, যার ওয়াদা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহতালা। আল্লাহ বলেন, 'বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা নিজের আত্মার উপর জুলুম করছো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিতভাবে আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা জুমার-৫৩)।

আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করাঃ ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মীয়তা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আত্মীয়তা সম্পর্কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আল্লাহ পাক বলেন, 'আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কেও আত্মীয়তা বন্ধন ছিন্ন করবে এসব যারা করবে, তাদের প্রতি আল্লাহ অভিশপ্ত করবে তাদের বিধির ও দৃষ্টি শক্তিহীন করেন' (সূরা মুহাম্মদ ২২, ২৩)
আরো পড়ুনঃ
আল্লাহর রসূল (সা:) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ পাক তার রিজিক বৃদ্ধি করে দিক এবং তার হায়াত বৃদ্ধি করে দিক তাহলে সে যেন আত্মীয়তা সম্পর্ক রক্ষা করে চলে' হাদিসের কুদসিতে রাসুল (সা:) বলেছেন, 'আল্লাহ পাক বলেন, আমার নাম 'রহমান' (পরম দয়ালু), আর আত্মীয়তার সম্পর্ককে বলা হয় 'রহম' যে লোক তা অক্ষুন্ন রাখে আমিও তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করি আর যেটা ক্ষুন্ন করে আমিও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি' (আবু দাউদ, তিরমিজি)

কোন কোন দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়


হজরত আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ আল-আসলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে তার দোয়া এভাবে বলতে শুনেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আংতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল আহাদুস সামাদুল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ, তুমি ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তুমি একক সত্তা, স্বয়ংসম্পূর্ণ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি, আর তার সমকক্ষ কেউ নেই।’
আরো পড়ুনঃ
বর্ণনাকারী বলেন, (ওই ব্যক্তির মুখে এ বাক্যগুলো শুনে) নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন- ‘সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন! নিঃসন্দেহে এ লোক আল্লাহ তাআলার মহান নামের (‘ইসমে আজম’-এর) ওসিলায় তার কাছে প্রার্থনা করেছে; যে নামের ওসিলায় দোয়া করা হলে তিনি কবুল করেন এবং যে নামের অসিলায় (কোনো কিছু সাহায্য) প্রার্থনা করা হলে তিনি তা দান করেন।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

আল্লাহর কোন নাম পড়লে মনের আশা পুরন হয়


যে ব্যাক্তি 'ইসমে আজম' পড়ে দোয়া করেছেন ('ইসমে আজম' মহান আল্লাহর এমন নাম) যে নামে ডাকলে মহান আল্লাহ সারা দেন। যে নামে তার কাছে চাওয়া হলে তিনি সব চাওয়া-পূরণ করেন। (আবু দাউদ) এই দোয়াটি হলো ইসমে আজম এটি পড়ে দোয়া করলে মনে আশা কল্যাণ দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।
আরো পড়ুনঃ
তারপর আল্লাহ তাআলা গুণবাচক নাম "ইয়া সামাদু" অথবা "আল্লাহুস সামাদ" ১০১ বার পাঠ করবেন বা তার বেশি পড়তে পারেন। তারপর আবার দরুদে ইব্রাহিম অথবা যে কোন তিনবার পড়বেন । তারপর আপনার মনে যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সেটি আল্লাহতালাকে বলবেন, যে হে আল্লাহ আমার আশা ইচ্ছা পূরণ করে দিন । এই দুই নামে আমল করে ইনশাআল্লাহ আপনার মনের আশা পূরণ হবে।

দোয়া কবুলের পরীক্ষিত আমল


আল্লাহতালার সঙ্গে সম্পর্ক মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পর্ক রয়েছে। কথাবার্তা আবেদন নিবেদন অনুযোগ অভিযোগ ও পার্থনা আল্লাহতালার কাছে মোনাজাত করা বান্দার প্রয়োজন রয়েছে। মহান, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ।

মুসলমানের নেক আমল হালাল খাবারের বরকতের উপর প্রভাব পড়ে আর হারামের প্রভাব মুসলমানের আমলের প্রতি ঝুঁকিতে থাকে। এ ব্যাপারে হাদিস শরীফে এসেছে আব্বু ঘুরায় আর রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন তিনি পবিত্র হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেনা আর আল্লাহতালা তার প্রতি রসূলের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনের

কিভাবে দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন


দোয়া কবুলের শর্ত ও আদব এ বিষয়ে গভীরভাবে খেয়াল রাখা দরকার। আলেমেরা দোয়া কবুলের শর্ত আদবে সময় বেশ কয়েকটি বিষয় প্রতি গভীরভাবে খেয়াল করেছেন। আল্লাহতালা পবিত্রতা অর্জনে পর দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল করেন। দুই হাত তুলে বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অর্থ: আল্লাহ ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যখন শেষ রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ডাকতে থাকেন, 'কে আছো যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছো, যে আমার নিকট চাইবে, আমি তাকে দান করব। কে আছো, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

অপর এক বর্ণনায় রয়েছে- যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, আমি রাজাধিরাজ। এমন কে আছো, যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। এমন কে আছো, যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব। এমন কে আছো, যে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। আল্লাহ তাআলা এভাবেই ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।

হযরত আমর বিন আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল সা. কে বলতে শুনেছেন- আল্লাহ তাআলা শেষ রাতের মধ্যভাগে বান্দার অধিক নিকটবর্তী হন। সুতরাং যদি সম্ভব হয় তোমরা সে সব লোকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও, যারা এ সময় আল্লাহ তাআলার যিকির করে।

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। এছাড়া ইসমে আজমের সহিত দোয়া করা উত্তম। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে-

  • ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম। ’ -সূরা বাক্বারা : ১৬৩
  • ‘আলীফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। ’ -সূরা আল ইমরান

দোয়া কবুলের সময়


আল্লাহতালা বান্দা সব সময় সব দোয়া কবুল করে থাকেন তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যে সময় দোয়া কবুল হয়
আজান ও ইকামতের সময় হযরত আনাস রাজিয়াল্লা আনহু থেকে বর্ণিত হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, 'আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না'। এ সময় বান্দা যে দোয়া করেন আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করে নেন।

  • জমজমের পানি খাওয়ার সময় বান্দা যে দোয়া করে আল্লাহ তার কবুল করে নেন ।
  • দুই সেজদার মধ্যবর্তী সময় কোন দোয়া করলে সে দোয়া আল্লাহ কবুল করে নেয় ।
  • আমাদের ঈমানদার হতে হবে দোয়া করার সময় নিশ্চিত হতে হবে যে আমরা আল্লাহর কাছে নির্ভর করি এবং আমাদের ইচ্ছা গুলো তার কাছে কৃপাশীল।
  • আমরা আমলের সময় হালাল আর তাজিব খাবার সেবন করতে হবে।

দু'আ কবুলের সম্পর্কে ১৫ টি শর্তসমূহ 


আরবীতে শার'ঈ ভাষায় দু'আর কয়েকটি অর্থ হয়, দু'আর এক অর্থ 'ইবাদাত । দু'আ করা এবং তা কবুল হবার কতগুলো শর্ত হাদীসে এবং দু'আ সম্পর্কে লিখিত গ্রন্থে যা উল্লেখ হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপ:

  • প্রথমতঃ হারাম হতে দূরে থাকা, অর্থাৎ খাওয়া পরা পানীয় দ্রব্য ইত্যাদি যেন হালাল ও সৎ উপায়ে অর্জিত হয়। যেহেতু হারাম উপায়ে অর্জিত মাল ভক্ষণ অথবা ঐ পয়সার পোশাক পরিধান করে যদি প্রার্থনা করা যায় ঐ প্রার্থনা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। এ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম, মিশকাত ২৭৬০)
  • দ্বিতীয়তঃ ইখলাস- অর্থাৎ দু'আকালীন নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে হবে যা লোক দেখানো নম্রতা বা গলৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রার্থনা না হয়। কেননা, ইখলাস-নিষ্ঠার সাথে পবিত্রতার মাধ্যমে অন্তরে দু'আ করাই হলো দু'আ কবুল হবার মূল সূত্র। (বুখারী, মুসলিম)
  • তৃতীয়তঃ দু'আ করার পূর্বে কিছু সৎ কাজ নেক 'আমল করা যা দু'আ কবুল হবার কারণ হয়। (বুখারী, মুসলিম ৪৯৩৮)
  • চতুর্থতঃ দু'আ করবে যেন মন প্রাণ এক করে গভীর একাগ্রতার সাথে চাওয়া, কেননা, অমনোযোগ অবস্থায় দু'আ আল্লাহ কবুল করেন। না। (বুখারী, মুসলিম)
  • পঞ্চমতঃ দু' রাক'আত বা ততোধিক কিছু নফল নামায পড়া। (সূরাহ্ বাকারাহ্ ৪৫ নং আয়াতের তাফসীর ইবনে কাসীর)
  • ষষ্ঠতঃ কিবলামুখী হওয়া, দু'আ করার প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও হাম্দ সানা পাঠ করা। (বুখারী ৬৩৮৩- ফাতহুল বারী)
  • সপ্তমতঃ নাবী ﷺ-এর প্রতি দরূদ পড়া দু'আর জরুরী নিয়ম।
  • অষ্টমঃ দু'হাত মুখের সামনে কাঁধ বরাবর উঠানো এবং হাতের তালুদ্বয় প্রসারিতভাবে খুলে রাখা। এছাড়া দু'আর আরও নিয়মাবলী আছে। (নাসায়ী, তিরমিযী- সহীহ)
  • নবমঃ "তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশংকচিত্তে অনুচ্চঃস্বরে সকাল ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না।" (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ২০৫)
  • দশমঃ মুখে যা বলে তার সাথে অন্তরের গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা।
  • একাদশঃ যা চাবে তা যেন আল্লাহর নিকট দৃঢ়তার সাথে একান্ত অভাবী হিসেবে নিরুপায় হয়ে চাওয়া এবং মুখে ও অন্তরে এমনভাবে প্রকাশ করা যে ঐ প্রার্থনার চাওয়া বস্তু তার একান্ত কাম্য; তাছাড়া তার গত্যন্তর নেই সুতরাং আল্লাহকে বলা যে, আমায় ফিরিয়ে দিলে আর আমার কোনই উপায় নেই। তুমি না দিলে অন্য কোন দাতা নেই। আর অন্য কোন দ্বারও আমার নেই।
  • দ্বাদশঃ আল্লাহর কাছে বার বার চাওয়া। দু'চার দফা দু'আ চেয়ে ক্ষান্ত না হওয়া।
  • ত্রয়োদশঃ যাবতীয় রকমের অভাব পূরণের জন্য একমাত্র আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা
  • চতুর্দশঃ কোন কিছু পাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি না করা। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ- সহীহ)
  • পঞ্চদশঃ দু'আ করার পূর্বে অযু অবস্থায় হওয়া উত্তম। (বুখারী- ফাতহুল বারী)

প্রিয় পাঠক আমরা আমাদের আর্টিকেলে আলোচনা করছি দোয়া কবুলের পরীক্ষিত আমল সমূহ সম্পর্কে। আমরা আশা করি, আপনারা এই বিষয়টি অনেক সুন্দরভাবে বুঝতে পেরেছেন। তারপরেও যদি কোন সমস্যা হয়ে থাকে বা না বুঝে থাকেন। তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা গুরুত্ব সহকারে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিব । ধন্যবাদ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url