ডায়োডের পূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করে দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তর

পরীক্ষার নামঃ ডায়োডের পূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করে দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তর


ডায়োডের পূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করে দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তর

শীতলীকরণ পদ্ধতিতে তরল পদার্থের আপেক্ষিক তাপ নির্ণয়তত্ত্বঃ চারটি ডায়োড ব্যবহার করে পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ একমুখীকারক বর্তনী গঠন করা হয়। হুইটস্টোন ব্রিজে চতুর্ভুজের চার বাহুতে চারটি রোধ ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে রোধের স্থলে চার বাহুতে চারটি ডায়োড ব্যবহার করা হয় বলে একে ডায়োডের পূর্ণ ব্রিজ বলা হয়। যেহেতু ব্রিজ দ্বারা পূর্ণ তরঙ্গ AC বা দিক পরিবর্তী প্রবাহকে DC বা একমুখী প্রবাহে রূপান্তর করা হয়। এজন্য একে পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেক্টিফায়ারও বলা হয়।

চিত্র ১০.ক: দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখীকরণ


দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখীকরণ।

ব্রিজ রেক্টিফায়ারের চার বাহুতে ডায়োডগুলো হচ্ছে D₁, D₂, D₃ এবং D₁। ব্রিজের A ও C প্রান্তকে ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি প্রান্ত যথাক্রমে S₁ ও S₂-এর সাথে যুক্ত করা হয়। অপর দু'প্রান্ত B ও D ভার রোধ R-এর দু'প্রান্তে যুক্ত করা হয়। ইনপুটে প্রযুক্ত পরিবর্তী প্রবাহের ধনাত্মক অর্ধচক্রের জন্য A বিন্দু ধনাত্মক এবং C বিন্দু ঋণাত্মক হবে। 

এ অবস্থায় D₁ ও D₃ সম্মুখ ঝোঁক প্রাপ্ত হয় এবং D₂ ও D₁ বিপরীত ঝোঁক প্রাপ্ত হয়। ফলে তড়িৎ প্রবাহ ABRDCS₂S₁A পথে প্রবাহিত হয়। আবার ইনপুটের ঋণাত্মক অর্ধচক্রের সময় A বিন্দু ঋণাত্মক এবং C বিন্দু ধনাত্মক হওয়ায় ডায়োড D₂ ও D₁ সম্মুখ ঝোঁক এবং D₁ ও D₃ বিপরীত ঝোঁক প্রাপ্ত হয়। ফলে তড়িৎ প্রবাহ CBRDAS₁S₂C পথে প্রবাহিত হয়। কিন্তু ইনপুটের দুই অর্ধচক্রের জন্য ভার রোধ R-এর মধ্য দিয়ে একই অভিমুখে তড়িৎ প্রবাহিত হয়। ফলে R-এর মধ্য দিয়ে একমুখী প্রবাহ পাওয়া যায়।

যন্ত্রপাতি
  • ব্রেডবোর্ড, 
  • স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার, 
  • ব্রিজ রেক্টিফায়ারের জন্য চারটি পাওয়ার ডায়োড, 
  • মাল্টিমিটার (বা AC ভোল্টমিটার, DC ভোল্টমিটার)/ অসিলোস্কোপ, 
  • রোধ, 
  • চাবি।
কাজের ধারা
  • ১. চিত্র ১০.ক-এর ন্যায় বর্তনী সংযোগ দিয়েছিলাম।
  • ২. একটি মাল্টিমিটার ব্যবহার করে S₁ ও S₂-এ ইনপুট পর্যবেক্ষণ করেছিলাম।
  • ৩. R-এর দু'প্রান্তে সংযোগ দিয়ে অসিলোস্কোপের সাহায্যে আউটপুট তরঙ্গের রূপ পর্যবেক্ষণ করেছিলাম।
  • ৪. S₁ ও S₂-এর মধ্যে AC ভোল্টমিটারের সাহায্যে ইনপুট ভোল্টেজের rms মান পেয়েছিলাম। আবার ভার রোধ R-এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্যের মান বা আউটপুট ভোল্টেজের মান DC ভোল্টমিটারের সাহায্যে পরিমাপ করেছিলাম। এছাড়া আউটপুট ভোল্টেজের ভিন্ন মান AC ভোল্টমিটারের সাহায্যেও পরিমাপ করেছিলাম।
ফলাফল
অসিলোস্কোপের সাহায্যে Vin এবং Vout-এর তরঙ্গরূপ চিত্র ১০.খ-এর মতো হওয়ায় বোঝা যায় যে, দিক পরিবর্তী প্রবাহের পূর্ণ তরঙ্গকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তর করা হয়েছে।

চিত্র ১০.খ: দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখীকরণের তরঙ্গরূপ


দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখীকরণের তরঙ্গরূপ

ইনপুটে AC ভোল্টমিটার ব্যবহার করে ইনপুট ভোল্টেজের মান পাওয়া যায় এবং আউটপুটে DC ভোল্টমিটার ব্যবহার করে আউটপুট ভোল্টেজের মান পাওয়া যায়। আবার আউটপুটে AC ভোল্টমিটার ব্যবহার করেও আউটপুট ভোল্টেজের ভিন্ন মান পাওয়া যায়। এতে বোঝা যায় যে, আউটপুটে প্রাপ্ত ভোল্টেজ পালসেটিং DC ভোল্টেজ, যা আউটপুট তরঙ্গের রূপকে সমর্থন করে।
অতএব বলা যায়, দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তর করা হয়েছে।
ফলাফলের উপর আলোচনা
এ পরীক্ষায় সকল কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে তাই বলা যায় ডায়োডের পূর্ণ ব্রিজ রেক্টিফায়ার দিক পরিবর্তী প্রবাহকে একমুখী প্রবাহে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। এ পরীক্ষায় নিম্নবর্ণিত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
  • ডায়োডের p প্রান্ত ও n প্রান্ত সতর্কতার সাথে সনাক্ত করেছিলাম।
  • ডায়োডগুলোর সংযোগ সঠিকভাবে দিয়েছিলাম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url