সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা

 আপনি যদি সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা, সজিনে পাতার রসের উপকারিতা, এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে এই আর্টিকেল গুলো পড়তে পারেন।

সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা
এই আর্টিকেলে আমরা আরো আলোচনা করছি সজিনা পাতার গুড়ো করার নিয়ম ও সজনে পাতার ক্ষতিকর দিকগুলো। এছাড়া আরো আলোচনা করছি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক এ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

ভূমিকা


আমাদের দেশে সজিনা একটি জনপ্রিয় সবজি হিসাবে বহু প্রচলিত। সজিনে বিভিন্নভাবে রান্না করা হয়। সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা অনেক বেশি। এটি একটি বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা অলিফিরা। গবেষকরা সজিনে পাতাকে সুপারফুড বলে থাকে। সজিনের পাতার পাশাপাশি সজিনের ডাটা অনেক উপকার রয়েছে।

সজিনা খেতে অনেক সুস্বাদু বলে আমরা দৈনন্দিন সবজি হিসেবে সজিনা খেয়ে থাকি। এটি খুব সহজে পাওয়া যায় এবং এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি বলে আমরা প্রায়শই সবজি হিসেবে সজিনা ব্যবহার করি। শীত প্রধান দেশব্যতীত প্রায় সকল দেশেই সজিনা গাছ জন্মে। সজিনা বারোমাসি পাওয়া যায় এবং সজিনা গাছের জাত বারবার ফলন দেই। বাসা বাড়ির আশেপাশে সজিনা একটি আদর্শ সবজির গাছ।

ডায়াবেটিস রোগীর সজিনের পাতা খাওয়ার নিয়ম


সজিনের পাতা আমরা শাক ও কাঁচা পাতা রস হিসাবে খেতে পারি। এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। সজিনের পাতা খেলে শরীরের হরমোন বর্ধন করতে পারে এবং মায়েদের বুকের দুধ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া সজিনের পাতার শাক, ভর্তা ও পাকড়াও বিভিন্ন রান্নার পদ্ধতিতে আমরা ব্যবহার করে থাকি। সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা অনেক রয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের সজিনে পাতার রসের উপকারিতা ও সজিনের পাতার গুড়া খাওয়া অনেক উপকার আছে। এই সজিনের পাতা অতিরিক্ত শর্করার পরিমাণ থাকায় ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে ক্লোরজেনিক এসিড ও শর্করা মাত্রাশীল স্থিতিশীল করে ।সজিনের পাতায় প্রচুর পরিমাণ এসকরিক এসিড থাকায় যা শরীরের ইন্সট্রুমেন্টস বাড়ায়। যার ফলে রক্তের শর্করা মাত্রা কমে যায়।সজিনের পাতায় সোডিয়াম ক্লোরাইড নাই বলে এই পাতা আমরা সহজে খেতে পারি এতে আমাদের ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করে।

সজিনের পাতার পুষ্টিগুণ


সজিনে গাছে অনেক পুষ্টিগুণ আছে এবং এটি সারা বছর পাওয়া যায় পাশাপাশি সজিনে গাছের পাতাও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী, বিধায় গাছটি যদি আমরা বাসার আঙ্গিনায় বা কোন ফাঁকা স্থানে লাগিয়ে থাকি তবে গাছের পাতা ও সজিনা খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেক উপকার পেয়ে থাকি।

প্রতি ১০০ গ্রাম সজিনা তে আমিষ ২.৯ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ৪.৮ গ্রাম, শর্করা ৫.১ গ্রাম, পানি ৮৫.২ গ্রাম, লোহা ০.২ গ্রাম, ভিটামিন সি ৬৯.৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি১ ০.০৪মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি২ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-এ ২৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম, জিংক ০.১৬ মিলিগ্রাম।

সজিনের পাতা বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে এটি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

  • খাবার হজম না হলে, অতিরিক্ত গ্যাস, বুকে জ্বালাপোড়া, পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা ইত্যাদির সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে।
  • সজিনে পাতার প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। যা আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠনে উপাদান হিসাবে কাজ করে।
  • চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে সজিনের পাতা এতে ভিটামিন এ রয়েছে ।
  • নিয়মত সজিনের পাতা খেলে কোষ্ঠীকাঠি দূর করতে সাহায্য করে।
  • সজিনের পাতায় রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।

সজিনে পাতার রসের উপকারিতা


সজিনে পাতার রসের উপকারিতা এর দুধের চেয়ে চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দুই গুন বেশি প্রোটিন আছে । একটি কমলা লেবুর চেয়ে সাতগুণ বেশি সজিনে পাতার রসে ভিটামিন সি আছে । সজিনার পাতা রসের কলার চেয়ে তিনগুণ বেশি পটাশিয়াম এবং গাজরের চেয়ে চার গুণ বেশি ভিটামিন এ বিদ্যামান । ফলে এটি সেবনের ফলে অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতা সহ বিভন্ন ভিটামিন ঘাটতি জনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে কাজ করে।

সজিনা পাতার গুড়ো করার নিয়ম


আমরা গ্রামগঞ্জে সজিনের অনেক গাছ দেখতে পায়। প্রথমে গাছ থেকে পাতা নিয়ে এসে সেটি ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর এটি একটি ব্লেন্ডার মেশিনে গুড়ো করে নিয়ে একটি এয়ার টাইট বক্সে আমরা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারি।এই সজিনের পাতা গুড়ো আমরা বিভিন্নভাবে খেতে পারি।

সজিনা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা


উপকারিতাঃ সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা অনেক বেশি। এটি ভালো উপাদান যা আমাদের তন্দ্র এবং প্রতিরোধশীলতা বাড়ায়, যেমন রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরলের প্রশ্রয়ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে। এছাড়াও সজিনা পাতা অন্যান্য উপাদান যেমন ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, প্রদান করে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সজিনে পাতার রসের উপকারিতা খাওয়া স্বাস্থ্যকর। সজিনা পাতার মধ্যে যে বিশেষ এক ধরনের প্রোটিন থাকে। যে প্রোটিনটি আমাদের শরীরের ইনসুলিন কে লিমিট করে অর্থাৎ আমাদের শরীরের গিয়ে ইন্সুলিনের মত কাজ করে। তার ফলে আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে পারে না। এছাড়া আমরা যদি নিয়ামতে সজিনের পাতা খেতে পারি। 

তাহলে আমাদের শরীরের ইনসুলিন ঠিক থাকে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যদি নিয়মত সজিনের পাতা খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরের যে ইমিনিটি পাওয়ার এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যাবে তখনবিভিন্ন ক্যান্সার সেল এর সাথে লড়াই করতে আমাদের শরীর সক্ষম হয়। এছাড়া সজিনে পাতার মধ্যে এক ধরনের সুগারকম্পাউন্ড থাকে যার নাম হলো নিয়াজিমিসন। 

এই নিয়াজেমিছেন অন্যান্য ক্যান্সারের সাথে প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের সাথে প্রটেক্ট করতে সক্ষম হয়। সজিনে পাতার মধ্যে যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে সেগুলো আমাদের শরীরে অ্যান্টিঅক্সিজেড হিসেবে কাজ করে। যে সকল মানুষেরা ক্যান্সার রোগে ভুগছেন তারা নিয়মমত সজিনের পাতা খেতে পারেন।রক্তের কোলেস্টের মাথা কম করতে সজিনের পাতা অনেক উপকার করে। 

গবেষণায় দেখা গিয়েছে আমরা যদি নিয়মিত সজিনের পাতা খাই তাহলে আমাদের শরীরের এইচএমজি কোয়ে রিডাকটিস অ্যাক্টিভিটিস কমে যায়। তার ফলে লিভারের প্রোডেকশনও কমে যায় এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে।

যে সমস্ত মানুষেরা হাই ব্লাড প্রেসারে ভুগছেন ডাক্তার তাদেরকে কলা খাওয়া পরামর্শ দেন। তার কারণ হলো কলাতে পটাশিয়ামের ভালো একটা সোর্স আছে। আর আমাদের শরীরের যখন পটাশিয়ামে মাত্রা বৃদ্ধি পায় তখন আমাদের রক্ত থেকে সোডিয়ামে মাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসে। আমাদের রক্ত থেকে যখন সোডিয়ামে মাত্রা কমে যায় তখন আমাদের ব্লাড প্রেসার ধীরে ধীরে কমে থাকে এবং ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল হয়ে যায়। 

কলার মধ্যে যত পরিমান পটাশিয়াম পাওয়া যায় সজিনের মধ্যে তার চেয়ে তিনগুণ পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তাই আমরা নিয়মিতভাবে যদি সজিনে পাতা খেতে পারি তাহলে আমাদের ব্লাড প্রেসার থাকবে কন্ট্রোলে। এছাড়াও সজিনে পাতার মধ্যে ওলীক এসিড নামে এক ধরনের মনোআনসারচুরেটেড ওমেগা 9ফাটি এসিড রয়েছে। যা আপনার শরীরের রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে সক্ষম।মরিঙ্গা বীজ অয়েল (সজিনে ডাটার বীজ থেকে যে অয়েল তৈরি হয়) যা চুল ও ত্বকের জন্য খুবই ভালো। 

এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আন্টি-ইনফ্লামেটরি প্রপার্টি।যা আপনার মুখে ত্বককে ব্রণ ও রিংকেল থেকে মুক্ত রাখবে। মরিঙ্গা বীজ অয়েল যদি আমরা নিয়মত ব্যবহার করি তাহলে আমাদের চুলপড়া, চুলপাকা এবং খুশকি থেকে দূরে রাখবে।আধুনিক গবেষণা জানা গিয়েছে যে, আপনি যদি নিয়মিত সজিনে পাতা খান তাহলে আপনার কিডনির যে পাথর থাকে তা সহজে হবে না।

অপকারিতাঃ সজিনা পাতার অধিক পরিমাণে খাওয়ার কিছু অপকারিতা হতে পারে। সজিনা পাতা যে থাকে, সেখানে সিয়ানাইড যুক্ত হতে পারে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষেত্রে ক্যান্সার বা অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সজিনা পাতা খাওয়ার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ততা এবং উপযুক্ত ধারণ গুলি মেনে চলা উচিত।

অধিক সজিনা পাতা খাওয়া হলে যেকোনও প্রকার সমস্যা হতে পারে, যেমন ক্যান্সার সমস্যা, গ্যাস ও বমি, কিছু মানসিক অস্বস্থিরতা সহ। সজিনা পাতা ধারণ করে আরও যে কোনও ধরনের খাবার সঙ্গে সাথে যদি বিশেষ কোনও মধু বা চিনি না নেওয়া হয়, তাহলে তা একটি সজিনা খাবারের অপ্রিয় হতে পারে। তাই সজিনা পাতা খাওয়া হলে মাত্র প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাবেন এবং অতিরিক্তভাবে খাবারের সঙ্গে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা আমাদের মেনে চলতে হবে।

সজিনা পাতার অধিক খাওয়ার ফলে কিছু মানবস্বাস্থ্যের সমস্যা হতে পারে, যেমন এলার্জি বা এসিডিটি হতে পারে। এছাড়াও, কিছু মানুষের জন্য সজিনা পাতা খেয়ে  গ্যাস বা পেট সম্বন্ধীয় সমস্যা হতে পারে। তবে, এই ধরনের অসুখের মানুষের সংখ্যা বেশ কম। সাধারণত সজিনা পাতা সেবন করা স্বাস্থ্যকর এবং অত্যন্ত দ্রুত দূর হয়।

সজিনের পাতা যেমন উপকার আছে তেমনি উপকারিতাও আছে। আমরা যদি কেউ অতিরিক্ত পরিমাণে সজিনে পাতা খাই এর ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।সজিনের পাতা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাবে, ব্লাড প্রেসার কমে যাবে এবং হজমশক্তিও কমে যাবে।অতিরিক্ত কোন কিছু খাওয়ায় ভালো না। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

সজিনা পাতার খাওয়া সঠিক পদ্ধতি ও সঠিক সময়


আমরা যদি নিয়মত সজিনে পাতা সঠিক সময় ও সঠিক পদ্ধতিতে খায় তাহলে এটি যে ঔষধি গুন আছে তা সহজে কার্যকর হবে। সজিনের পাতা আমরা সবাই বেশিভাগ সজিনের শাক, সজিনে ফুলের বড়া, সজিনে ফুলের সবজি, সজিনে ডাটার বিভিন্ন সবজি এবং সজিনে ডাটার মাছের ঝোল এইসব সবজি আমরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি।

লেখকের মন্তব্য


আমরা সবাই কমবেশি সজিনের পাতা খাই। সজীনের পাতা ও সজিনে পাতার রসের উপকারিতা যেমন  তেমনি অপকারও আছে। সজিনের পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম আছে যা আমাদের ত্বক ও শরীরের জন্য অনেক উপকারী। সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ম মেনে যদি ডায়াবেটিস রোগীরা শারা জীবন এই পাতা সেবন করে থাকে তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

আশা করি আপনাদের এই সজিনে পাতা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা, পুষ্টিগুণ, ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। তাই এই ধরনের আরো নতুন নতুন পোস্ট পেতে আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন ধন্যবাদ। আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই এই ওয়েবসাইটে কমেন্ট, শেয়ার ও ফলো করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url