পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আপনি যদি পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্ক এবং পেয়ারা খেলে কি গ্যাস হয় এ সমন্ধে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে এই আর্টিকেল পড়তে হবে।


এই আর্টিকেলে আমরা আরো আলোচনা করছি পেয়ারা খাওয়ার সঠিক সময়, পেয়ারা ক্ষতিকর দিকগুলো এছাড়া আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে সেগুলো জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল।

ভূমিকা


আজ আমরা আপনার সঙ্গে পেয়ারার বেশ কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। বাজারে যে সমস্ত জনপ্রিয় ফলগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে আপেল হলো অন্যতম। আমরা মনে করি আপেল আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী কিন্তু একটি আপেল থেকে একটি পেয়ারা কত গুন উপকারী তার পুষ্টিগুণ নিয়ে যদি আলোচনা করি তখন আমরা বুঝতে পারবো।

পেয়ারা হল বহু পরিচিত প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটি ফল। বাংলাদেশের বেশিভাগ বাড়িতে এই পেয়ারা গাছ দেখা যায়। এই ফলটি এতটাই সহজলভ্য যে তার যোগ্য সম্মানটুকু পায়না। বাজারে যে সমস্ত দামি ফল রয়েছে সে সমস্ত ফলের মধ্যে যে পুষ্টিগুণ বা যে উপকারিতা রয়েছে তার থেকে কয়েক গুণ বেশি  পুষ্টি রয়েছে পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা মধ্যে। 

আপেল আর পেয়ারার মধ্যে পুষ্টিগুণের পার্থক্য


একটি আপেলের মধ্যে যত পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ পুষ্টি রয়েছে পেয়ারার মধ্যে। নিম্নে আপেল ও পেয়ারার মধ্যে পুষ্টি গুন দেখানো হলোঃ

  • আপেলে আয়রন .১২ mg পেয়ারা আয়রন .২৬ mg
  • আপেলে ম্যাগনেসিয়াম ৫ mg পেয়ারার ম্যাগনেসিয়াম ২২ mg
  • আপেলে ফাইবার ২.৪ gm পেয়ারার ফাইবার ৫.৪ gm
  • আপেলে ফসফরাস ১১ mg পেয়ারার ফসফরাস ৪০ mg
  • আপেলে প্রোটিন .২৬ gm পেয়ারার প্রোটিন ২.৫৫ gm
  • আপেলে সুগার ১০.৩৯ gm পেয়ারা সুগার ৮.৯২ gm

প্রতিদিন পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা


আমরা সবাই কমবেশি পেয়ারা পছন্দ করি। পেয়ারা পুষ্টিগুণঃ পেয়ারাতে পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, ডাইটারি, ফাইবার এবং প্রোটিন প্রচুর পরিমাণ থাকে। ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ৩০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়া এই ফলে রয়েছে বি৬, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম। হজমের সমস্যা হলে পেয়ারা খেতে পারি।


পেয়ারার মধ্যে প্রচুর পরিমাণের ডায়েটারি ফাইবার থাকে। ডায়েটারি ফাইবারের মধ্যে সলিবল ফাইবার এবং ইন সলিবলফাইবার রয়েছে। একজন মানুষের সারাদিন যত পরিমাণ ফাইবারের প্রয়োজন হয় একটি মাঝারি সাইজের পেয়ারা খেলে ১২ % ডাইটেরি ফাইবার পাওয়া যেতে পারে যে ডাইটেরি ফাইবার আমাদের ডাইজেস্টিভ ফাংশন কে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

প্রেগন্যান্ট মেয়েদের জন্য পেয়ারা খাওয়া খুবই উপকার। এতে প্রচুর পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি৯ রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খাওয়া খুবই উপকার। সর্দি কাশির জন্য ছোট পেয়ারা জুস খাওয়া খুবই উপকার।

পেয়ারা খাওয়ার নিয়ম


সব ফলের মধ্যে অন্যতম ফল হলো পেয়ারা। মৌসুমী ফলের মধ্যে পেয়ারা বেশ পুষ্টিকর। পেয়ারাতে ক্যালরি খুব কম পরিমাণে থাকে ; ফাইবার থাকে বেশি যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী পেয়ারা আমরা সরাসরি খায় অথবা কোন চাটনির সাথে খাই না কেন পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা অনেক। 

আমাদের শরীরের জন্য একদিনে একটি পেয়ারা খাওয়া যথেষ্ট। তবে যাদের গ্লুকোজের সমস্যা রয়েছে তারা চাইলে অর্ধেক পেয়ারা খেতে পারে। দুটো ভারী খাবারের মাঝে পেয়ারা খাওয়া হলো একটি উপযুক্ত সময়। এতে পেয়ারা খেলে কি গ্যাস হয় না।

পেয়ারা খেলে কি গ্যাস হয়


পেট ফাঁপা সমস্যা থাকলে পেয়ারা কম খাওয়া ভালো। অনেকের পেয়ারা হজম হয় না এতে প্রচুর গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। ফাইবার ও ভিটামিন সি বেশি থাকায় পেয়ারা খেলে পেট ফাঁপা সমস্যা দেখা। এতে ফ্রুকটোজের পরিমাণ বেশি। অনেকেই ফ্রুকটোজ ম্যাল-অ্যাবসরবশন সমস্যায় আক্রান্ত। তারাও পেয়ারায় থাকা প্রাকৃতিক চিনি সহজে হজম করতে পারেন না।

অত্যন্ত পুষ্টিকর পেয়ারার স্বাস্থ্যগুণ বিবিধ। পেয়ারা এমন একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল যাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। পেয়ারা খেলে কি গ্যাস হয়, গ্যাস এবং এসিডিটি সমস্যায় ভুগলে পেয়ারা খাওয়া উপকারী। আমরা যদি নিয়মত পেয়ারা খাই তাহলে রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বেশি হবে।

পেয়ারা খাওয়ার সঠিক সময়


পেয়ারা খাওয়া সঠিক সময় হল বিকালে দুপুরে খাবারের প্রায় এক ঘন্টা পরে দুপুরে খাবারে কিছুক্ষণ পর পিয়ারা খেলে পেটে গ্যাস হবে না এবং পেটের সব সমস্যা দূর করণ হিসাবে কাজ করে। পেয়ারা এমন একটি ফল যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলে ভিন্ন ভিন্ন ফল পেতে পারেন। শীতকালে সকালে খালি পেটে পেয়ারা খেলে পেটে গ্যাস হবে এবং পেট ব্যথা করতে পারে। আবার গরমের সময় খালি পেটে পেয়ারা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।

সকালে খালি পেটে পেয়ারা খেলে কি হয়


সকালে খালি পেটে পেয়ারা খেলে কৌষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যায়। তাই আমাদের একটি করে সকালে খালি পেটে পেয়ারা খাওয়া উচিত। আমরা সবাই কমবেশি পেয়ারা খেতে পছন্দ করি। এটি খেলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়। খালি পেটে পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা পাওয়া যায় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। রোদ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এটি খেতে পার।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পেয়ারা খুব সহায়ক করে, তাই আমাদের প্রতিদিন পেয়ারা খাওয়া উচিত। এতে অনেক ভিটামিন পাওয়া যায় যা আমাদের মস্তিষ্কে শক্তিশালী করতে খুব সহায়ক করে। আমাদের পেট পরিষ্কার করার জন্য সকালে ঘুম থেকে খালি পেটে একটি পেয়ারা খাওয়া উচিত।

খালি পেটে পেয়ারা কম খাওয়া পরামর্শ পুষ্টি বিজ্ঞানীদের কেননা, এ সময় ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ বেশি করে, পেয়ারা বেশি খেলে গ্যাস হয় হয়ে থাকে। পেয়ারাকে যদি আমরা আপেল আপেলের বিকল্প বলি, তবে পেয়ারাকে যেভাবে উপস্থাপনা করি না কেন পেয়ারাতে ভিটামিন সি ভরপুর। তাছাড়া এটা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো এবং যারা ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে চান তাদের জন্য ভালো।

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা


আপনি যদি প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খেতে পারেন। এ পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিঃসন্দেহে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। তার কারণ পেয়ারার মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। একটি কমলালেবুর মধ্যে যতটুকু পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে তার চার গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে পেয়ারার মধ্যে। যে ভিটামিন সি আমাদের ইমিউনিটি পাওয়ারকে বাড়াতে সাহায্য করে।

তার সাথে সাথে এ ভিটামিন সি আমাদের শ্বেত রক্তের কণিকা মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আমাদের রক্তে যখন শ্বেত রক্তকণিকা মাত্রাবৃদ্ধি পায় তখন আমাদের শরীরকে বিভিন্ন প্রকার ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। তাই আপনার ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন অবশ্যই পেয়ারা খেতে পারেন।

পেয়ারা আমাদের হার্টের জন্য খুব বেশি উপকারী তার কারণ পেয়ারার মধ্যে প্রচুর হাই পাওয়ার এন্টিঅক্সাইড রয়েছে। যে এন্টিঅক্সাইডগুলি আমাদের হার্টের ব্লাড সার্কুলেশন ব্লাড ভেসেল গুলো রয়েছে সেগুলো অক্সিজেটিভ দূরের রাখতে সাহায্য করে। পেয়ারার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম। যে পটাশিয়াম রয়েছে সে পটাশিয়াম আমাদের রক্তের চাপকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। আমাদের ব্লাড সার্কুলেশন যে সমস্ত আটারই বা ভেসেল রয়েছে সেগুলোকে ফ্লেক্সিবল করতে সাহায্য করে।

পেয়ারার এ সকল উপকারিতা থাকলেও অনেক অপকারিতা রয়েছে পেয়ারা একটি ঠান্ডা ফল। এর ফলে কোন ব্যাক্তি যদি অধিক পরিমাণে পেয়ারা খেয়ে থাকে তবে তার সর্দি কাশি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে আবার যে সকল মানুষের ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে তারা অত্যাধিক পরিমাণে পেয়ারা গ্রহণ করলে তাদের সর্দি ও কাশির সমস্যায় ভুগতে পারে।

কোন ব্যক্তি পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কোন গুরুতর রোগে আক্রান্ত অথবা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগে থাকে তাহলে পেয়ারা গ্রহণের পূর্বে তাকে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। অনেক পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ফাইবার থাকে তাই ডায়েটে পেয়ারা অন্তর্ভুক্ত করার পূর্বে একজন ডায়েটেশিনের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

যেহেতু পেয়ারাতে অধিক পরিমাণে ফাইবার থাকে তাই এটি হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মহিলাদের বেশি পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে পেয়ারা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে কোন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ারা বেশি পরিমাণে খেতে থাকলে তার হজম শক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

পেয়ারা বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফেপে যেতে পারে। বেশি পরিমাণে পেয়ারা খাওয়ার ফলে পেটে ফোলা ভাব অথবা গ্যাস হতে পারে। পেয়ারা পাতার নির্যাস খাওয়ার ফলে একজিমা হতে পারে। পেয়ারার পাতা ত্বকের জ্বালা ভাব সৃষ্টি করে। যেহেতু পেয়ারাতে অধিক পরিমাণে চিনি থাকে।  

ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি চিনি খেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত এড়িয়ে চলা। ফাইবারের সমৃদ্ধ এই ফল খেলে মানুষের ওজনও কমে যায়। দিনের বেলা হাঁটা চলার সময় পেয়ারা খাওয়া ভালো তবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেয়ারা খাওয়া ঠিক নয় ।

কি রংয়ের পেয়ারা খাওয়া ভালো


সাদা পেয়ারায় বীজ বেশি থাকে। সাদা পেয়ারাতে চিনি ভিটামিন সি ও স্টাচ থাকে। সাদা রঙের পেয়ারাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি অন্যদিকে গোলাপি পেয়ারাতে স্টার্চ কম থাকে চিনি কম থাকে পানি ও ভিটামিন সি অধিক পরিমাণে থাকে। গোলাপি পেয়ারা বীজ হীন হতে পারে। আবার কিছু কিছু গোলাপি পেয়ারায় সামান্য পরিমাণে বীজ থাকে। তাই আমাদের সকলের উচিত পেয়ারা খাওয়া উপকারিতা ও অপকারিতা দিকগুলো মানা।

রাতে পেয়ারা খেলে কি হয়


পেয়ারায় অতিরিক্ত ফাইবার থাকায় ওজন কমাতে বেশ সাহায্য করে। তবে রাতে পেয়ারা না খাওয়াই ভালো। ফাইবার থাকলেও কারো পেয়ারা খাওয়ায় গ্যাস হয়। পেয়ারা খেলে অনেকটা পেট ফাঁপা সমস্যা দেখা দেয়। তাই দিনের বেলা পেয়ারা খাওয়া ভালো। রাত হলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেয়ারা খাওয়া ঠিক না। রাতে পেয়ারা খেলে ঠান্ডা লেগে কাশি হতে পারে।

লেখকের শেষ বক্তব্য


পেয়ারার অনেক উপকারিতা ও অপকারিতা থাকলেও আমাদের সকলের উচিত পরিমিত পরিমাণে পেয়ারা গ্রহণ করা যাদের বয়স কম তারা তাদের বয়স অনুযায়ী ফল গ্রহণ করা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী যেহেতু পেয়ারার অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং এটি স্বল্প মূল্যে বাজারে পাওয়া যায়। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত দিনে অন্তত একটি করে পেয়ারা খাওয়া।

আশা করি আমাদের এই পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা পুষ্টিগুণ আপনাদের ভালো লাগবে এবং আপনারা উপকৃত হবেন। এই ধরনের আরও নতুন নতুন পোস্ট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন ধন্যবাদ আমাদের ওয়েবসাইটের আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে ওয়েব সাইটে কমেন্ট, শেয়ার এবং ফলো করুন ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url